কম্পিউটার ভাইরাস কি

কম্পিউটার ভাইরাস কি? ধরুন হঠাৎ করে একদিন কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দিল। যেমন সিস্টেম Error দেখাচ্ছে, বা স্কিনে কোন অপ্রয়োজনীয় বার্তা দেখাচ্ছে অথবা অটোমেটিক কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল হচ্ছে। এক কথায় আপনার কম্পিউটার অস্বাভাবিক আচরণ করছে আর আপনি ঠিক মত চালাতেও পারছেন না। তখননি আপনি চিন্তিত হয়ে পরবেন যে ম্পিউটারে কি ভাইরাস আক্রমন করলো না কি অন্য কোন সমস্যা। তাই কম্পিটারের ফাইল গুলো নিরাপদে রাখতে হলে আগেই ভাইসার সম্পর্কে অবগত হয়ে ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে।

কম্পিউটার ভাইরাস কি :-

আমরা এক সময় মনে করতার ভাইরাস শব্দটি শুধুমাত্র জীববিজ্ঞান কিংবা মানব দেহের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস আবিস্কারের পর ভাইরাস শব্দটি অন্য এক জগতে প্রবেশ করেছে। যেমন কম্পিউটার, ট্যাব, স্মার্টফোন, পেনড্রাইভ ইত্যাদির সঙ্গে ভাইরাস শব্দটি যুক্ত হয়ে গেছে। কম্পিউটার ভাইরাস শব্দটি প্রায় সবার কাছেই পরিচিত।

Virus শব্দটি কয়েকটি ওয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত রূপ। এর পূর্ণরূপ হল – Vital Information Resources Under Seize. যার অর্থ দাড়ায়, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিনিয়ে নেয়া এমন কিছু বুঝায়। বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে কম্পিউটার ভাইরাস এমন একটি প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার যা কম্পিউটারের ক্ষতি করার জন্য তৈরি করা হয়ে থাকে। এটি আপনার কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকে সকল ফাইল গুলোকে মোডিফাই করে ক্ষতিকর কিছু প্রোগ্রাম সেট করে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে আপনার সবগুলো ফাইল করাপ্টেড হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ফাইলগুলো সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলে। বর্তমানে যারা নিত্য-নতুন ভাইরাস আবিস্কার করছে এবং কম্পিউটারকে আক্রান্ত করে তারা ভাইরাস ফাইলের মধ্যে তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম দিয়ে দেয়। তারা মোটা অংকের টাকা দাবি করে এবং সেটা দিয়ে দিলে তারা আবার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কম্পিউটার ঠিক করে দেয়। এটা বিশাল এক প্রতারনা ছাড়া কিছুই নয়।

কম্পিউটার ভাইরাস কি

কম্পিউটার ভাইরাস আবিষ্কারের ইতিহাস:-

সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী প্রথম কম্পিউটার ভাইরাস আবিস্কার হয় ১৯৮৩ সালের ১০ই নভেম্বর, ফ্রেড কোহেন তিনি তখন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের ছাত্র ছিলেন, তিনিই প্রথম কম্পিউটার ভাইরাস পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক এক সেমিনারে প্রদর্শন করেন। উক্ত সেমিনারে তিনি তার আবিস্কারকৃত প্রোগ্রামটির মেইনফ্রেম কম্পিউটারে প্রবেশ করিয়ে খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। তার আবিস্কারকৃত প্রোগ্রামটি নিজে থেকেই নিজের অনুলিপি সৃষ্টি করতে পারত ফলে এটিকে তার সুপারভাইজার লেন অ্যাডলেম্যান ভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করেন এবং এটির নামকরণ করেন ভাইরাস হিসেবে। তখন থেকে কোহেনের আবিস্কার প্রোগ্রামটির নাম কম্পিউটার ভাইরাস হিসাবে পরিচিতি পায়।

আবার কেউ কেউ মনে করেন ১৯৭০ সালেই প্রথম কম্পিউটার ভাইরাস আবিস্কার করেছিলেন রবার্ট থমাস, যে ভাইরাসের নাম ছিল ক্রিপার এটিও নিজে থেকে নিজেই অনুলিপি তৈরি করতে পারতো, তবে এটি পরীক্ষামূলক ছিল বলে মনে করা হয়।

কম্পিউটার ভাইরাসের মূল ধরন গুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো :-

আজ পর্যন্ত পৃথীবিতে শত শত কম্পিউটার ভাইরাস আবিষ্কার হয়েছে। প্রতিদিনই সাইবার সন্ত্রাসীরা নতুন নতুন সব ভাইরাস আবিষ্কার করেই চলছে। তবে বর্তমানে ভাইরাসের কিছু মূল ধরন গুলো নিম্নে দেয়া হলো।

1. RESIDENT VIRUS
2. MULTIPARTITE VIRUS
3. DIRECT ACTION
4. BROWSER HIJACKER
5. OVERWRITE VIRUS
6. WEB SCRIPTING VIRUS
7. FILE INFECTOR
8. NETWORK VIRUS
9. BOOT SECTOR VIRUS

ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ :-

আমরা জেনেছি বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সকল ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত কম্পিউটারে একই লক্ষণ প্রকাশ পাবে না। তবে কিভাবে বুঝবেন আপনার কম্পিউটার বা ডিভাইসটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কি না?

ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কম বেশি সব কম্পিউটারে মৌলিক কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় সেগুলো দেখে আপনি ধারণা করতে পারবেন যে আপনার কম্পিউটারটি আসলেই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। যেমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোন সফ্টওয়্যার চালু বা বন্ধ হওয়া, কোন সফ্টওয়ার অটো ইন্সটল হওয়া, সিস্টেম এরর দেখানো, ডিভাইসটি হঠাৎ হ্যাং হয়ে যাওয়া, অহেতুক কোনো নির্দেশনা স্ক্রিনে প্রদর্শন, প্রোগ্রাম লোড নিতে অধিক সময় নেওয়া, ইন্টারনেট গতি স্লো হয়ে যাওয়া, ফাইল এমনিতেই ডিলিট হয়ে যাওয়া, ফাইল করাপ্টেড হয়ে যাওয়া, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের ত্রুটি পরিলক্ষিত হওয়া, অপ্রয়োজনীয় ভাবে হঠাৎ করেই কম্পিউটার বুট করতে শুরু করা, অপ্রয়োজনীয় ও অজ্ঞাত সব ফাইল এমনিতেই ডিভাইসে চলে আসা ইত্যাদি। এসব লক্ষণ গুলোর কোনটি আপনার কম্পিউটারে প্রকাশ পেলে বুঝবেন আপনার কম্পিউটারটি বা ডিভাইসটি ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।

কম্পিউটারে ভাইরাস কি ভাবে প্রবেশ করে :

মূলত অসর্তকতার কারণেই কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশে করার সুযোগ পায়

১. বর্তমান যুগে কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না এমন মানুষ খুজে পাওয়া মুসকিল। আর অধিকাংশ ভাইরাসই কম্পিউটারে প্রবেশ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। সাধারণত কোনো সফ্টওয়্যার বা ফাইল আনসিকিউর কোনো সোর্স থেকে ডাউনলোড করার মাধ্যমে অথবা ভাইরাস আছে এমন কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার মাধ্যমে।

২. আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনে USB ডিভাইস আমাদের কম্পিউটারে কানেক্ট করে থাকি বিভিন্ন ফাইল বা সফটওয়্যার আদান-প্রদান করে থাকি৷ এক্ষেত্রে উক্ত USB ডিভাইসে ভাইরাস থাকলে তা খুব সহজেই আমাদের কম্পিউটারে প্রবেশ করতে পারে।

৩. ইমেইল ব্যবহার মাধ্যমে আমাদের কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। পরিচিত-অপরিচিত অনেক সোর্স থেকে অসংখ্য মেইল আসে এবং অনেক ইমেইলে বিভিন্ন ফাইল এটাচ করা থাকে। সেসব ফাইল ওপেন করতে গিয়েও আমরা ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকি।

ভাইরাস থেকে বেচেঁ থাকার জন্য কি করা যায়:

1. সর্বদা আপনার কম্পিউটারে একটি পেইড এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন, তবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেন ভাইরাস আক্রমন করতে না পারে সেজন্য ইন্টারনেট সিকিউরিটি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।

2. উইন্ডোজ সবসময় আপডেট রাখুন।

3. অবিশ্বস্ত কোনো সাইট থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন না।

4. কম্পিউটারে পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সর্বদা স্ক্যান করে নিন। পারেত পক্ষে এগুলো প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকুন।

কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হলে করনীয় :-

প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে প্রতিনিয়ত ভাইরাস গুলো নতুন নতুন রুপে আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে আক্রমণ করে। ফলে অনেক সময় সাবধানতা অবলম্বন করার পরও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

১. ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে সর্বপ্রথম একটি পেইড এন্টিভাইরাস ইন্সটল করুন এগুলো অধিকাংশ ভাইরাসই ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।

২. ভাইরাসের আক্রমনের শিকার হলে দ্রুত এন্টিভাইরাস দিয়ে সম্পূর্ন কম্পিউটারের ফাইল স্ক্যান করে সংক্রমিত ফাইলগুলো চিহ্নিত হওয়া মাত্র সাথে সাথে ডিলিট করে দিন।

3. ভাইরাস আক্রমনের ফলে আপনার কম্পিউটারে যদি বেশি সমস্যা দেখা দেয় তাহলে কম্পিউটারটি উইন্ডোজ দিয়ে নিন।

প্রযুক্তি