কালোজিরার উপকারিতা

কালোজিরার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। কালোজিরা আমাদের সকলের কাছেই একটি পরিচিত নাম। তবে বাংলাতে কালোজিরার আরোও অনেক নাম রয়েছে কালিজিরা, কালোজিরা, কালো নেওড়া, নিজেলা, কালোধনে নামে অনেকে জেনে থাকে বা এসব নামে বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়। চিকিৎসায় এমনভাবে কাজ করে যে অনেকে নাম দিয়েছেন কালোহিরা। আসলে এটি হিরার মতোই দামী। যা দিয়ে প্রায় সকল রোগের চিকিৎসা করা যায়।

আমরা এই কালোজিরাকে যে নামেই ডাকি না কেন এর গুন ও গুরুত্ব অপরিসীম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভুতপূর্ব আবিষ্কার। আমাদের পরিচিত অনেক খাবারে খেয়াল করলে দেখবেন যে কালোজিরা দেওয়া রয়েছে  এমনকি বর্তমানে কালোজিরার বিস্কুট বের হয়েছে। কালোজিরার উপকারিতা এত বেশি যে এটি রন্ধন শিল্পে মসলার পাশাপাশি কালোজিরা স্থান পেয়েছে। কালোজিরাকে পাচফোড়ন অর্থ্যাৎ বাগার দেওয়ার জন্য তেলে ভেজে কাচা চিবিয়ে খাওয়া যায়।

কালোজিরার উপকারিতা

 

কালিজিরা আয়ুর্বেদীয়, ইউনানি, কবিরাজি ও লোকজ চিকিৎসায় বহুবিধ রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার হয়। তাই ডাক্তার বা চিকিৎসকগন ঔষধ সেবনের পাশাপাশি কালোজিরা সেবন বা খেতে বলেন। কালোজিরার নাম জানে না এমনলোক খুব কমই খুজেঁ পাওযা যাবে। কালোজিরার রয়েছে মধুর মতোই ওষুধি গুন। এই কালোজিরা আমাদের শরীরের জন্য রোগ প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে আমাদের শরীর কে সুস্থ রাখে। কমবেশি আমাদের সবার বাসা বাড়িতেই কালোজিরা রয়েছে।
কালোজিরাকে অনেকে ঘরোয়া ঔষধ হিসাবে নাম দিয়ে থাকে। কালোজিরায় রয়েছে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, পটাশিয়াম, অ্যামাইনো এসিড, প্রোটিন, ফাইবার এর মত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান। কালোজিরার এমন উপকারিতা রয়েছে যে, ডায়াবেটিকস এর মত বড় বড় রোগের ঔষধ হিসাবে কাজ করে থাকে।

এই কালোজিরাকে অনেক ভাবে খাওয়া যায়। কালোজিরাকে ভর্তা বা ভাতের সাথে খাওয়া যায়। আবার কারোজিরার তেল কিনতে ও নিজেরা বানাতে পাওয়া যায়। কালোজিরাকে অনেকে আবার চায়ের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় খায়। আদা, লবঙ্গ, গোল মরিচ, কালোজিরা ইত্যাদি দিয়ে অনেকে গরম পানি করে খায়। যাহা ঠান্ডা বা কাশির ক্ষেত্রে অনন্য ভুমিকা পালন করে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, “তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করবে, কেননা এতে একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত সর্ব রোগের মুক্তি রয়েছে”। মধু আর কালোজিরাকে কেউ যদি নিয়মিত সকালে খালি পেটে খায় তবে তার শারীরিক শক্তি আগের থেকে অনেক বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি প্রায় সকল প্রকার রোগ খেকে মুক্ত থাকবে। কালোজিরায় রয়েছে মধুর মতো অ্যান্টি-অক্সিজেনাল উপাদান যা আমাদের শরীরের রক্তের সাথে মিশে রক্তকে রাখে পরিস্কার। রক্তে হিমোগ্লোবিন এর পরিমান বৃদ্ধি করে। অক্সিজেন চলাচল স্বাভাবিক রাখে।

কালোজিরার তেলের উপকারিতা

কালোজিরার উপকারিতা

১। কালোজিরার তেল গরম করে হাটুতে মালিশ করলে হাটু বা হাতের ব্যাথায় উপশম হয়।
২। কালোজিরার তেল এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ত্বকের অনেক রোগের কাজ করে খাকে।
৩। মুখে যেকোন ধরনের দাগ ও ব্রন ও পুরানো মেছতা দূর করতে এই তেলের সাথে লেবুর রসের নির্জাস লাগিয়ে দিনে দুই থেকে        তিন বার ব্যবহারে কালো দাগ দূর হয়।
৪। মাথাব্যাথার জন্য অত্যান্ত উপকারি ঔষধ হিসাবে কাজ করে এই তেল।
৫। যাদের পুরাতন ঠান্ডা বা পুরাতন বাত ব্যাথা আছে তারা কালোজিরার তেল গরম করে বুকে নিয়মিত মালিশ করলে ঠান্ডা                  চিরতরে বিদায় হবে।
৬। সর্দি-কাশিতে কালোজিরার তেলের বিশেষ উপকারিতা রয়েছে বিধায় বর্তমানের সচেতন পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের ছোট          বেলা থেকেই নিয়মিত কালোজিরার তেল খাওয়ান যার ফলে বর্তমানে অনেক শিশু আগের থেকে অনেক সুস্থ সবল হয় ।
৭। ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবে বিষেশ ষসহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৮। মাথার চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।
৯। সরন শক্তি বৃদ্ধি ও মেধা বিকাশে কালোজিরার তেলের বিকল্প নেই।
১০। পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধি করতে খুব কার্যকরী বীর্যপাত রোধে এই তেল মালিশ করলে পুরুষ হয়ে ওঠে সিংহের মতো                        শক্তিশালী।
১১। বাচ্চা জন্মদানের পরে মায়েদের দুগ্ধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
১২। যাদের পেট ফাপা, অম্লত, ঘন ঘন গ্যাস হয় তারা ব্যবহারে তাদের পেটের সমস্যা দূর হয়।
১৩। যদি শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ থাকে তারা এই তেল কুসুম কুসুম গরম পানিতে কয়েক ফোটা নিয়মিত খালি পেঠে খেলে            চর্বি কমে যাবে দুই-তিন মাসের মধ্যে।
১৪। মহিলাদের মাসিক বা ঋতুস্রাব যে কোন ধরনের সমস্যায় কালোজিরা খেলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়।
১৫। উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে ফিরিয়ে আনে।

সর্তকতাঃ দুই বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের কালোজিরার তেল খাওয়ানো যাবে না। তবে শরীরে ব্যবহারে করা যাবে। সাস্থ্য ভালো সুন্দর ও মানসিক ভাবে ভালো রাখতে কালোজিরা ও কালোজিরার তেলের বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য