চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় :- বর্তমানে নারী ও পুরুষ উভয়ই চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন। যার মূল কারন প্রাকৃতিক পরিবর্তন, আবহাওয়া পরিবর্তন ও অতি আধুনিকতা। প্রাকৃতিক কিছু কিছু কারনের পাশাপাশি শারীরিক কিছু সমস্যাও চুল পড়ার কারণ হতে পারে। যেমন হরমোনাল ইমব্যালেন্স, থাইরয়েড, অপুষ্টি কিংবা মাথায় ঠিকমত রক্ত চলাচল না হওয়া। অত্যধিক চুল পরার কারনে কখনো কখনো মাথায় টাক পড়ে যাওয়ার মত বড় সমস্যাও হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষদের মাথার তালুর চুল কমতে দেখা যায় এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে সিঁথি ফাঁকা হয়ে যায়।
তবে চুল পড়ার সমস্যা কেবল যে বড়দের হয় তা নয়, শিশুদের ক্ষেত্রেও এটি লক্ষ্য করা যায়। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টি চুল পড়লে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু এটির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে সেটিকে চুল পড়ার সমস্যা হিসাবে ধরা হয়। বালিশের কভারে অথবা
গোসলের তোয়ালেতে যদি চুলের আধিক্য লক্ষ্য করা যায় তবে সে ক্ষেত্রে চুলের পরিচর্যার দিকে নজর দিতে হবে এবং এর পরিমাণ যদি অত্যধিক বৃদ্ধি পায় সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ, কেবলমাত্র বাহ্যিক কারণেই চুলের ক্ষতি হয় না এর জন্য অভ্যন্তরীন কিছু কারণও থাকতে পারে।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

আসুন জেনে নেই চুল পড়ার কারণ :–

১। চুল পড়ার প্রধান কারণ হল বংশগত। যদি কোন পুরুষ অথবা মহিলার একটি নির্দিষ্ট বয়সের পরেই চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয় এবং তাদের বংশে সেই বিষয়টি বিদ্যমান থাকে তবে এটিকে বংশগত রোগ হিসেবে ধরনা করা হয়।

২। চুল পড়ার অন্যতম কারণ হল প্রোটিনের স্বল্পতা। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হলে বা ক্যালরি বহুল খাবার বাদ দিলে অনেক ধরনের পুষ্টি উপাদান বাদ পড়ে যায়। শরীরের প্রতি কেজি ওজনের ভিত্তিতে প্রোটিন গ্রহণ করতে হয়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৮ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। কারণ চুলের গোড়া প্রোটিন দিয়ে তৈরি।

৩। ভিটামিন বি-১২ ও ডি’য়ের স্বল্পতার কারণে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। এই দুই উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে ও মাথার ত্বকের
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। মাংস ও দুধের তৈরি খাবারে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।

৪। নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় জন্ম বিরতিকরণ পিল বা বড়ি ব্যবহার বা পরিবর্তন চুলের ওপর প্রভাব রাখে। অধিকাংশ বড়িতে প্রোজেস্টেরন থাকে যা চুল পড়ার অন্যতম কারণ। তাই এই ধরনের ওষুধ নির্বাচনের আগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫। অনেক সময় সন্তান জন্মের পরে মহিলাদের চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের
কারণে এধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

৬। চুল রিবন্ডিং করা, কালার করা, বিভিন্ন স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে চুলের স্বাভাবিক ধরনের পরিবর্তন করা চুল পড়ার এরেকটি অন্যতম কারণ। চুলে যতটা সম্ভব কম রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা উচিত।

৭। কোনরকম অসুস্থতা কিংবা অপারেশনের পরে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে চুল যে পরিমাণ ঝরে যায়
তার সাথে পাল্লা দিয়ে চুলের বৃদ্ধি ঘটে না। তবে শরীর সুস্থ হয়ে গেলে এই সমস্যাটির সমাধান হয়ে যেতে পারে।

৮। শরীরে হঠাৎ হরমোনের পরিবর্তন হলে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন গর্ভাবস্থায়, প্রসব বা মাসিক বন্ধ হওয়ার পর বা অত্যধিক জন্মনিয়ন্ত্রণ বরি খেলে চুল ওঠার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৯। থাইরয়েড, অ্যালোপিয়া অথবা মাথার তালুতে দাদ এর মত রোগ হলে সে ক্ষেত্রে চুল পড়ার সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।
মূলত মাথার ত্বক সংক্রমিত হলে এই সমস্যা লক্ষ্য করা যায়।

১০। ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, বাত, হৃদপিন্ডের সমস্যা বা মানসিক কোন চাপের কারণে কোন ওষুধ দীর্ঘদিন খেলেও চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। Read What is time

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় জেনে নেই :-

চুল পড়া একটি গুরুতর সমস্যা এবং এই সমস্যার সমাধান আমাদের হাতের নিকটই আছে। বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে ভাবি না বলেই চুল পড়ার সমস্যা আমাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে ওঠে। আসুন জেনে নিন কিভাবে আপনার হাতের কাছে থাকা সামগ্রী দিয়েই হারিয়ে যাওয়া চুল আবার ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

১। মেথির ব্যবহার চুল পড়া বন্ধ করার উপায় :

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে ও চুল বৃদ্ধির জন্য মেথি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে । এটি সহজেই পাওয়া যায়। কমবেশি সকলের রান্নাঘরেই এই উপাদানটি উপস্থিত থাকে। এটি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। খুব শীঘ্র নতুন চুল গজাতে চাইলে কিংবা চুলের বৃদ্ধি করাতে চাইলে মেথি একটি উপযোগী উপাদান। এটি ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকে চুলের দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন মেথিতে উপস্থিত থাকে যা মাথার ত্বকের রক্ত চলাচলকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়াও মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং আয়রন ও পটাশিয়াম। যা চুলের বৃদ্ধি ঘটায় ও অকালপক্কতা রোধ করতে সাহায্য করে এবং চুলকে মসৃণ এবং ঘন করে তোলে।

যা যা প্রয়োজন:-

মেথি – ২/৩ চা চামচ
লেবুর রস – ৩/৪ ফোটা

২/৩ চামচ মেথি একটি বাটিতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন সাথে লেবুর রস দিয়ে রাখুন। সকালে পানি ফেলে ভালো ভাবে মিশ্রন তৈরী করে চুলের মধ্যে মিশ্রণটি লাগিয়ে নিন। ৩০-৪০ মিনিট রাখার পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এরপর নারিকেল তেলের মধ্যে মেথি বীজ ফুটিয়ে উষ্ণ তেল চুলের গোড়ায় লাগাতে পারেন। এটিও চুলের বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং চুলের খুশকির সমস্যা দূর করবে। এছাড়াও অকালপক্কতা দূর করে চুলকে আরো ঘন এবং কালো করে তোলে। সপ্তাহে অন্তত একদিন করলেই এক মাসে মধ্যেই ফলাফল বুঝতে পারবেন। এটি চুল পড়া বন্ধ করার একটি অন্যতম উপায়।

২। নারকেল এর দুধের ব্যবহার:

চুলের পরিচর্যার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল নারকেলের দুধ। এটি চুলের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য খুব ভালো কাজ করে থাকে। এর মধ্যে কোন রাসায়নিক উপাদান না থাকায় চুলকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিয়ে থাকে। তাছাড়াও চুলে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালনকে দ্রুত করে তোলে।

যা যা প্রয়োজন:-

নারকেল – ১টি
শাওয়ার ক্যাপ – ১ টি

বর্তমানে বাজারে নারকেলের দুধের প্যাকেটে বা গুঁড়ো কিনতে পাওয়া যায়। তবে বাজার থেকে না কিনে খুব সহজ পদ্ধতিতে ঘরেই বানিয়ে নিন নারকেলের দুধ এবং এটাই নিরাপদ এবং খাটি। একটি নারকেল কুড়িয়ে সাদা অংশটি আলাদা করে রাখুন। তারপর একটি পরিষ্কার কাপড় নিয়ে তার মধ্যে নারকেলের কোড়ানো অংশগুলি একসাথে রেখে কাপড়টি শক্ত করে বেঁধে চেপে চেপে সেই নারকেল থেকে দুধ বের করে নিন। এরপর একটি কাপের এক চতুর্থাংশ নারকেলের দুধ নিয়ে সেটি উষ্ণ গরম করে নিন। উষ্ণ গরম হওয়া দুধটি মাথার ত্বকে ১৫ মিনিট ধরে হাতের আঙ্গুল দিয়ে মালিশ করুন। লাগানের হয়ে গেলে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত নারকেলের দুধ লাগিয়ে ৪৫-৬০ মিনিট রেখে দিন এবং মাথায় একটি শাওয়ার ক্যাপ লাগিয়ে রাখুন। ৪৫-৬০ মিনিট পর যে কোন শ্যাম্পু ব্যবহার করে মাথা ধুয়ে নিন। এভাবে অন্তত ১/২ মাস সপ্তাহে একবার করে করলে নিজেই চুল এর পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

৩। নিম পাতা দিয়ে স্থায়ীভাবে চুল পড়া কমান:

প্রাচীন কাল থেকেই চুল পরিচর্যায় অন্যতম মাধ্যম হিসেবে নিম পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। নিমের পাতায় উচ্চমাত্রায় ফ্যাটি অ্যাসিড থাকার কারণে তা মাথার ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কারন মাথার ত্বক সুস্থ থাকলেই চুলের বৃদ্ধি ভালোভাবে হবে। যারা পাতলা চুল অথবা টাক পড়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য নিম পাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
মাথার ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন বন্ধ করে চুলের গোড়াকে শক্ত করতে সাহায্য করে নিম পাতা।

যা যা প্রয়োজন:-

নিমপাতা – ১০-১২ টি
নারকেল তেল – পরিমানমত

নিম পাতা গুলি বেটে নিয়ে মিশ্রণটি চেপে চেপে নিম পাতার নির্যাস বা রস বের করে নিন। তারপর নারকেল তেল এর সাথে মিশিয়ে সেটি মাথার ত্বকে এবং পুরো চুলে ৩০-৪৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। এছাড়াও চুলে অতিরিক্ত খুশকি থাকলে চুলের পরিমাণ অনুযায়ী নিম পাতা নিয়ে পানিতে ফুঁটিয়ে নিমপাতা গুলিকে বেটে মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন। এটি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে মাথার ত্বকে কাজ করে থাকে। এছাড়াও নিমপাতার মিশ্রনের সাথে সমান পরিমাণ অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল বা নারকেল তেল মিশিয়ে হালকা গরম করে মাথায় লাগাতে পারেন। চুল নরম এবং মসৃণ করার জন্য নিম পাতা বেটে তার মধ্যে মধু মিশিয়েও চুলে লাগাতে পারেন। লাগিয়ে রাখার পর যে কোন শ্যাম্পু ব্যবহার করেন সেটি দিয়ে চুল ধুয়ে নিবেন।

৪। ডিমের মাস্ক দিয়ে চুলের যত্ন:

চুলের দ্রুত বৃদ্ধি পেতে ডিম একটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান। ডিম চুলের রুক্ষতা দূর করে চুলকে মসৃণ করে তোলে। ডিমের সাদা অংশটি তৈলাক্ত চুলের জন্য উপকারী এবং ডিমের কুসুম শুষ্ক চুলের জন্য উপকারী। ডিমের মধ্যে চুলের প্রয়োজনীয় প্রোটিন যেমন- বায়োটিন, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ডি থাকায় চুলকে সুস্থ করে তুলতে সহায়তা করে।

যা যা প্রয়োজন:-

ডিম – ১ টি
লেবুর রস – কয়েক ফোঁটা

একটি ডিমের কুসুম নিয়ে তার মধ্যে দু তিন ফোঁটা লেবুর রস দিন। ভালো করে ফেটে মিশ্রণটি মাথার ত্বকে এবং চুলের ডগা পর্যন্ত ভাল করে লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ লাগিলে রাখুন। ২০-৩০ মিনিট পর কোন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। মাসে একবার থেকে দুইবার এই পদ্ধতিটি অবলম্বন করতে পারেন।

৫। চুলের যত্নে পেঁয়াজের রস :

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে ও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে অন্যতম উপাদান হল পেঁয়াজের রস। পেঁয়াজের রসের মত অন্য কোন উপাদান এত দ্রুত চুল পরিচর্যায় সহায়তা করতে পারে না। পেঁয়াজের রসে থাকা উপাদান চুলকে আরো ঘন করে তোলে। এছাড়াও এরমধ্যে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান থাকায় এটি চুলে আরো পুষ্টি যোগায়।

যা যা প্রয়োজন:-

পেঁয়াজ – ১ টি
শাওয়ার ক্যাপ – ১ টি

একটি বড় পেঁয়াজ ৪ ভাগ করে ব্লেন্ডারে পেঁয়াজ টি মিশ্রিত করে নিন। পেঁয়াজের মিশ্রণটি থেকে কোন নরম কাপড়ের সাহায্যে পেঁয়াজের রস আলাদা করে নিন। এরপর পেঁয়াজের রস সরাসরি মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগান। পেঁয়াজের রস মাথায় লাগানোর সময় মাথায় আঙ্গুল দিয়ে হালকা মাসাজ করবেন। পেয়াজের রস লাগানোর পর ঘণ্টা খানেক পর শাওয়ার ক্যাপ লাগিয়ে চুলটা অমনি ভাবেই রেখে দেবেন। এরপর শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে ওয়াস করে নিন। এভাবে মাসে ৩/৪ বার লাগলেই পরিবর্তন বুঝতে পারবেন।

৬। চুল পড়া বন্ধে আমলকির ব্যবহার:

আমলকি চুলের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে। এটি চুলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়। অতিরিক্ত পরিমাণে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলে আমলকি ব্যবহার করা যেতে পারে। চুল পড়ার অন্যতম কারণ শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

যা যা প্রয়োজন:-

কাঁচা আমলকি – ১ টি
নারকেল তেল – পরিমান মত

কাঁচা আমলকি থেকে বীজ ফেলে দিয়ে রোদের তাপে শুকিয়ে নারকেল তেলে সেই শুকনো আমলকি টুকরো দিয়ে হালকা তাপে ১৫-২০ মিনিট তেলটা উষ্ণ গরম করে নিন। এরপর তেলটি ঠান্ডা করে এক ঘন্টা মত লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু করে নিন।
এছাড়াও কাঁচা আমলকির রস ও নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে মাথায় লাগাতে পারবেন।

৭। চুলের যত্নে এ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী:

চুল ও ত্বকের যত্নে অন্যতম একটি উপাদান হলো এ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী। এটি যেমন ত্বকে লাগানো যায়, তেমনি এটি খাওয়াও যায়। এ্যালোভেরা শরীরের অনেক রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মূলত চুলে এর ব্যবহার দেখা যায়। এ্যালোভেরা ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই সমৃদ্ধ হওয়ার কারনে এটি চুলে যথেষ্ট পুষ্টি জোগায়। এছাড়া এটি চুলকে আর্দ্র এবং মসৃন রাখে। এটি একটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত। এ্যালোভেরা গাছের কাঁচা জেল চুলের পরিচর্যায় ব্যবহার করা হয়।
অথবা দোকানের প্যাকেটজাত অ্যালোভেরা জেলও ব্যবহার করতে পারেন। এটি মাথায় শুষ্ক ত্বকে লাগালে তৈলাক্ত চুলের সমস্যা, খুশকি, চুলের শুষ্কতা রোধ করা যায়।

যা যা প্রয়োজন:-

এ্যালোভেরা জেল – ২/৩ চামচ

এ্যলোভেরা গাছ থেকে পাওয়া সাদা রংয়ের এ্যালোভেরা জেল সরাসরি মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগাতে পারেন বা দোকানের প্যাকেটজাত এ্যালোভেরা জেলও চুলে লাগাতে পারেন। কারও কারও ক্ষেত্রে সরাসরি গাছ থেকে তুলে এ্যালোভেরা জেল লাগালে অ্যালার্জি হতে পারে সেটি একবার লাগিয়ে দেখে নিবেন সমস্যা হলে বাজারের প্যাকেটজাত এ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। মাথার ত্বকে থেকে চুলের আগা পর্যন্ত লাগিয়ে ১ ঘন্টা মত রেখে তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে চুলগুলো ধুয়ে নিবেন। সপ্তাহে ১/২ দিন এটি করতে পারেন।

৮। লেবুর রস দিয়ে চুলের যত্ন:

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে লেবু এটি অন্যতম উপাদান। এটি চুলে ব্যবহার করার ফলে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
লেবুতে মূলত ভিটামিন সি থাকে আর ভিটামিন সি এর অভাবে চুল পড়া দেখা দেয়। যেহেতু লেবুতে ভিটামিন সি আছে তাই এটি চুলের পতন রোধ করে।

যা যা প্রয়োজন:-

লেবু – ১টি
চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
একটি লেবু নিয়ে সেটির রস সম্পূর্ণ বের করে মাথার ত্বকে ৫-১০ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করে, ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন।
তারপর যেকোন সালফেট মুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ভালো করে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে একদিন করে এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে চুলের সমস্যা দূর হবে এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটবে।

৯। টক দই:

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের আরও একটি অন্যতম উপাদান টকদই। এটিতে থাকা উপাদানগুলি চুলকে মসৃণ করে তুলে সাহায্য করে।
তছাড়া টকদইতে থাকা আন্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদানগুলি মাথার ত্বককে ঠান্ডা রাখতেও সহায়তা করে। আরও এটি চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে।

যা যা প্রয়োজন:

টকদই – পরিমানমত
পাকা কলা – ১ টি
অলিভ অয়েল – ২ চামচ
মধু – ১ চামচ

টক দই সরাসরি মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগাতে পারেন। এছাড়াও প্যাক বানিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। প্যাক হিসাবে পাকা কলা, মধু, অলিভ অয়েল এবং টক দই মিশিয়ে মিশ্রণটি মাথার ত্বকে এবং সম্পূর্ণ চুলে ৪৫-৬০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। তারপর যেকোন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। এই প্যাকটি ব্যবহার করার ফলে চুলে আলাদা একটি ঘনত্ব এবং উজ্জ্বলতা আসবে।
সপ্তাহে একদিন এই প্যাকটি ব্যবহারের চেষ্টা করুন। তাহলে এক মাসের মধ্যেই চুলের পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

১০। নারকেল তেল দিয়ে সহজেই চুল পড়া কমান:

সুন্দর এবং স্বাস্থোজ্জ্বল চুল করার অন্যতম সেরা উপাদান হলো নারকেল তেল। কেন না যা কিছু মাথায় লাগান না কেন তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারকেল তেলের মাথায় লাগাতে হয়। নারকেল তেল সহজেই মাথার ত্বকে মিলিয়ে যায় এবং ত্বরেক গভীরে প্রবেশ করে চুলে পুষ্টি যোগায়।

যা যা প্রয়োজন:

নারকেল তেল : কয়েক চামচ

নারকেল তেল সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার করা যায়। তেলটি ব্যবহার করার আগে হালকাগরম করে নিলে সেটা আরও ভালো হয়। হালকা গরম নারকেল তেল নিয়ে মাথায় হাতের আঙ্গুল দিয়ে আস্তে আস্তে ১৫-২০ মিনিট ধরে মাসাজ করুন। এবং তা কিছু সময়ের জন্য রেখে কোনও শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে দুইবার এটি করতে পারেন। এর ফলে আপনার চুল আরও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

আরোও পড়ুন কালোজিরার উপকারিতা

স্বাস্থ্য