ছেলেদের চুলের যত্ন

ছেলেদের চুলের সঠিক ৭টি যত্ন

সাধারনত আমরা অনেকেই ভেবে থাকি ছেলেদের চুলের যত্নের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে এটি আমাদের সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। সুন্দর স্বাস্থ্য উজ্জ্বল চুল পেতে হলে চুলে নিয়মিত তেল দেয়া, চুল শ্যাম্পু করা, কন্ডিশনিং করা খুবই প্রয়োজন। সেই সাথে সাথে সপ্তাহে একবার হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা। যদি তেমনটা করা সম্ভব না হয় মাসে অন্তত একদিন চুলে ঘরোয়া হেয়ার প্যাক ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

মেয়েদের মত ছেলেদেরও চুলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। যেমন:
খুশকি হওয়া।
চুল ঝড়ে যাওয়া।
অল্প বয়সে টাক পড়ে যাওয়া।
ব্রনের মত মাথায় গোটা হওয়া।
অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া (যদিও এটা অনেক সময় বংশের থেকে আসে)।
ছত্রাকের মত মাথায় আবরন পড়া।

এধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য ছেলেরা ঘরোয়া কিছু টিপস মেনে চলতে পারে আবার সেলুনে গিয়েও কিছু হারবাল প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারে। চুলকানি, গোটা হওয়া এবং অতিরিক্ত চুল পড়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

ছেলেদের চুলের সমস্যা সমাধানের জন্য ৭টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস:

১. ভাল মানের সঠিক শ্যাম্পু বাছাই
চুলের ময়লা পরিষ্কারের জন্য শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয়। আর সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচনে কিছু পন্থা লক্ষ্য করতে হয়। বাজারে ছেলেদের চুলের জন্য অনেক ভাল মানের শ্যাম্পু পাওয়া যায়। তবে হারবাল শ্যাম্পু ব্যবহার করা উত্তম। কারন এই সকল শ্যাম্পুতে ক্যামিকেল কম থাকে যা চুলের জন্য ভাল। যেহেতু ছেলেরা বাহিরে থাকে বেশি সেহেতু তাদের প্রতিদিন বা একদিন পর পর শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারে। শ্যাম্পু কেনার আগে চুলের ধরণ জেনে সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন করতে হয়। তৈলাক্ত, শুষ্ক, সাধারন চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু নির্বাচন করতে হয়। উচ্চ দামে বিশ্বাসী নয় ভাল মানে বিশ্বসী হয়ে শ্যাম্পু ক্রয় করা উত্তম।

২. ভাল মানের সঠিক কন্ডিশনার বাছাই
চুলকে ঝরঝরে করে তুলতে প্রয়োজন কন্ডিশনার যা শ্যাম্পুর পর ব্যবহার করতে হয়। কন্ডিশনার কেনার ক্ষেত্রেও ভাল মান লক্ষ্য করতে হয়। অনেক সময় মানহীন কন্ডিশনার ব্যবহারে চুল নষ্ট হয়ে যায়। তবে বাজারের কেনা কন্ডিশনারের পরির্বতে এক মগ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিতে পারেন। কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন চুলের গোঁড়া ও মাথার ত্বকে লেগে না যায়। চুলের গোঁড়ায় বা মাথার ত্বকে লাগলে চুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

৩. খাঁটি তেল বাছাই
তেল চুলের গোঁড়াকে শক্ত ও মজবুত করে। খাঁটি তেল চুলের প্রধান খাবার। তেল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও খাঁটি তেল নির্বাচন করতে হয়। খাঁটি তেল গুলোর মধ্য অন্যতম হলো: নারকেল তেল, তিলের তেল, সরিষার তেল, কালিজিরার তেল, জলপাইর তেল সহ নানা ধরনের তেল রয়েছে। এই তেল গুলো বাসায় তৈরী করা যায়। আবার হারবাল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। ছেলে বলে তেল ব্যবহার করা যাবে না এটা একটা ভুল ধারনা। সুতরাং ছেলেদের চুলের যত্ন এ খাঁটি তেল নির্বাচন করলে চুল ভাল থাকে।

৪. চুলে মেহেদি ব্যবহার
চুলের গোঁড়া শক্ত, মজবুত ও ঝরঝরে করতে মেহেদি অন্যতম ভুমিকা রাখে। আদিম যুগ থেকে মেহেদি পাতা ব্যবহার হয়ে আসছে। মাথার ত্বকে গোটা, চুলকানি হলে মেহেদি ব্যবহারে তা ভাল হয়ে যায়। তবে মেহেদি ব্যবহারে ঘরে মেহেদি পাতা বেটে ব্যবহার করা উত্তম। কেনা মেহেদি বাটা অথবা মেহেদি গুড়াতে ক্যামিকেল মিশানো থাকে তাই ব্যবহার না করাই শ্রেয়। সপ্তাহে একদিন বা ১৫ দিনে একদিন একটি ডিমের, পেয়াজের এবং মেহেদি পেস্ট মিশিয়ে ১-২ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিতে হবে। [পৃথিবীর ওজন কত জানাতে এখানে ক্লিক করুন]

৫. চুলে পেয়াজের রস ব্যবহার
পেয়াজে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সালফার, ভিটামিন ‘বি’ ও ‘সি’ থাকে। যা চুলের গোঁড়াকে মজবুত করে, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তাই সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করা উচিত। পেয়াজ বেটে বা ব্লেন্ড করে সেকে শুধু রস টুকু নিয়ে পরিষ্কার চুলে রস দিয়ে ১ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করে চুল ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। এমনভাবে ধুতে হবে যেন চুলে পেয়াজের গন্ধ না আসে।

৬. চুলে টক দই ব্যবহার
চুলের সমস্যা সমাধানের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো টকদই। টক দইয়ে ফ্যাট আর ল্যাকটিক অ্যাসিড রয়েছে যা চুলে আর্দ্রতা জুগিয়ে চুলকে নরম আর মসৃণ রাখে। দইকে চুলের উপর প্রাকৃতিক কন্ডিশনার বলা হয়। বিশেষ করে শীতকালে চুলে দই দিলে চুলের শুষ্কতা দূর হয়। তাছাড়া দই মাথার চুলকুনি, জ্বালাভাব কমাতে সাহায্য করে। বিভিন্ন উপাদান- পেয়াজ, টকদই, মেহেদি, ডিম ও বিভিন্ন তেল ইত্যাদির এক সাথে একটা প্যাক বানিয়ে মাসে একবার ব্যবহার করলে চুল প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ্য ও ঝরঝর করে তুলে।

৭. চুলে অ্যালোভেরা ব্যবহার
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী চুলের অত্যন্ত কার্যকারী উপাদান। যাতে রয়েছে মিনারেল, প্রোটিন, ১০০% এস্টেভিয়ালাইজ, ভিটামিন সি। এটি চুলের রুক্ষতা-শুষ্কতা দূর করে, প্রাকৃতিক ভাবে চুলকে রাখে ঝলমলে ও কোমল, মাথার ত্বকে অ্যালার্জি দূর করে থাকে, খুশকি দূর করতে কার্যকরী ভুমিকা রাখে এবং চুল পড়া বন্ধ করে সাথে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এটি সরাসরি পাতার জেল ব্যবহার করা যায় এবং বিভিন্ন প্যাকের সাথে মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়।  [কেটো ডায়েড সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন]

ছেলেদের চুলের যত্ন

এছাড়াও ছেলেদের চুলের যত্ন এর জন্য কলা, লেবুর রস সহ অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করলে চুল সুস্থ থাকে। সেলুনে চুল কাটলে মাথা ম্যাসেজ করা হয়। এটি চুলের গোঁড়া নরম করে দেয়। তবে যখন তেল দেয়া হবে তখন মাথায় তেল দিয়ে আলতো হাতে (হাতের আঙ্গুলে নখের অংশ দিয়ে নয়) আঙ্গুলের সাহায্য ম্যাসেজ করতে পারেন। চুলকে ভাল, সতেজ রাখে এমন জাতীয় খাবার এবং প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে।