ডিজিটাল বাংলাদেশ- ২০২১

ডিজিটাল বাংলাদেশ- ২০২১ বাঙ্গালীর একটি স্বপ্ন। মানব সভ্যতা উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হচ্চে প্রযুক্তি। তবে এই উন্নয়ন সাধন হয়েছে বিজ্ঞানের আর্শীবাদে। পৃথিবীর বহু দেশ এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সাফল্যের নিদর্শন করছে তার মধ্য বাংলাদেশ এগিয়েছে যাচ্ছে। তবে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ বহুগুনে পিছিয়ে আছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্য ছোট এই দেশটি সেই তুলনায় দ্রুততম এগিয়ে যাচ্ছে যা প্রশংসনীয়।

বাংলাদেশের এককালীন একটি স্বপ্ন, একটি প্রত্যয় যা আজ পূরন হয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ে পূরণ হওয়া সেই স্বপ্নটি হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। বর্তমানের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এটি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ- ২০২১
২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাহীন দেশ বলে গণ্য করা হত। তবে আজ তা সম্পূর্ন ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশ প্রযুক্তির অনন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে ডিজিটালাইজেশনের উদ্দেশ্যে অত্যাধুনিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

একটি উন্নত এবং প্রযুক্তি নির্ভর দেশ এবং ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১২ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করে যে ‘২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ পরিণত হবে। এটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ছিল যা আজ অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়েছে। মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রথম সোপান।

ডিজিটাল বাংলাদেশ

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের নতুন জীবন পেয়েছি। যার পরবর্তীতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যে সমৃদ্ধি ও উন্নত জীবন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ। ১৭ই থেকে ১২ই নভেম্বর ২০০৯ সালে ‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’- ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ সামিট’ নামক এ বিষয়ে প্রথম সম্মেলনের আয়োজন করে, যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। এভাবেই বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কর্মসুচী মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ এ পরিণত হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে বিশ্বমানের পরিষেবা দানকারী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা। এটি মূলত একটি দেশের স্বপ্ন যেখানে স্বল্প ব্যয়ে, স্বল্প পরিশ্রমে, তথা স্বল্প সময়ে মানুষের হাতের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের আয়তন কত- ২০২১ জানতে এখানে ভিজিট করুন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্পটি যখন প্রথম ঘোষণা হয় তখন সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা ধরনের সমালোচনা এবং বিরোধিতা করে। তবে এই সমালোকদের উপেক্ষা করে বর্তমানে একটি চরম বাস্তবতা দেখিছে বাংলাদেশ। আর এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের মাধ্যমে মানুষ এখন দেশের যেকোন প্রান্তে বসে অনলাইন সেবা দিচ্ছে এবং ভোগ করছে।

প্রযুক্তির সেবা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের ফলে বর্তমানে বিভিন্ন দৈনন্দিন অত্যাবশ্যকীয় কাজসমূহ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে অতি সহজে প্রয়োজন এবং চাহিদা মেটায়। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো-

ই-ব্যাংকিং,
ই-কমার্স,
ই-লার্নিং,
ই-এগ্রিকালচার,
ই-হেলথ ইত্যাদি।

ডিজিটালইশনের মাধ্যমে সরকারি বেসরকারির সকল পরিষেবা সম্পাদন হচ্ছে। আর এর মাধ্যমে সময় কম ব্যয় হচ্ছে। ইন্টারনেট পরিষেবা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক সম্প্রসারণ হচ্ছে এর পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইসের বিপণন বৃদ্ধি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে ব্যবসায় আরও সম্প্রসারণ হয়েছে।

প্রযুক্তি সেবার গুরুত্ব
সমগ্র দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা আর্ন্তজাতিক ভাবে উপস্থাপন করার জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার ভূমিকা অপরিহার্য। দেশের সকল স্তরে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণের ফলে প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছ কর্মসংস্থানের সুযোগ।

তাছাড়া সরকারী সকল কাজ ডিজিটালাইজেশনের ফলে প্রশাসনিক কাজকর্ম অনেক বেশি দ্রুতগতি সম্পন্ন, স্বচ্ছ এবং অপরাধীকে ধরা সহজ হয়েছে। ডিজিটাইজেশনের ফলে প্রত্যক্ষভাবে এবং পরোক্ষভাবেও বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্ধারণের সুযোগ হয়েছে। মানুষের এখন পরিষেবা পাওয়ার জন্য আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না।

নিজের সুযোগ – সুবিধামতো ঘরে বসেই সেবা পেয়ে যায়। চিকিৎসা সেবা, ব্যাংক সেবা, যে কোনো ধরনের বিল পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় কিছু ক্রয় করা সহ সকল কাজ আজ ঘরে বসেই করা যায়। আর এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রধান মেরুদন্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রযুক্তির নেতিবাচক দিক
প্রযুক্তি আমাদেরকে উন্নতি ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ইতিবাচক জীবন দিয়েছে ঠিক বিপরীতে নেতিবাচক কিছু দিক রয়েছে যা আমাদের ক্ষতি করেছে। প্রতিদিন অপরাধীর অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে, অলসতার পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে, শারিরীক সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত মানুষের বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে যা জীবনকে কঠিন এক বাস্তবতার সম্মুখীন করছে।  বাংদেশে সংস্কৃতির বিভিন্ন ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

তবে একথা অনস্বীকার্য যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির প্রয়োজন আছে, আবার সরকারকে নেতিবাচক দিকগুলো খেয়াল রাখতে হবে। যাতে করে সকল সমস্যা সমাধান করে দেশকে অপরাধমুক্ত এবং বেকার মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বেকারত্ব হ্রাস করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপসংস্কৃতি ও কালোবাজারিরা দেশের মানুষের ক্ষতি করে। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে নতুবা দেশের অবস্থা বেহাল হবে।

বর্তমানে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিশু থেকে শুরু করে সকল স্তরের মানুষ (বিশেষ করে নারী ও শিশু) বিভিন্ন সাইবার অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। এই সাইবার অপরাধ থেকে দেশের সাধারন মানুষকে বাঁচাতে সরকারকে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে অস্বীকার করার মত এখন আর কিছু নেই। বিভিন্ন ক্ষতিকারক দিকের উদ্ভব সংক্রান্ত আশঙ্কা ও সম্ভাবনা থাকলেও সেই সকল ক্ষতিকারক সম্ভাবনা এড়িয়ে সমাজ তথা দেশের অগ্রগতিতে অগ্রসর হতে হবে। এটিই আমাদের বর্তমান কর্তব্য হওয়া উচিত।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই বিশের দশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছে একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। কারন এই বিশের দশকের। মধ্যই দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়। বিশেষজ্ঞদের আরও এই ধারনা যে, এই স্লোগানটি সত্যি হবে – “প্রযুক্তি প্রগতির পথ হিসাবে গণ্য, ডিজিটাল বাংলাদেশ হতে হবে সকলের জন্য।”

জাতীয়