তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন। আমরা সকলে কম-বেশি ত্বকের যত্ন করি। নিজেকে পরিপাটি, উজ্জ্বল, সুস্থ্য রাখতে সবাই সচেতন থাকি। রূপচর্চা করলে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি পায়। তবে ত্বকের ধরন অনুসারে ত্বকের যত্ন নিতে হয়।

গ্রীস্মের আগমনের সাথে সাথে ত্বকে তৈলাক্ত বেড়ে যায়। আর যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের গরমের দিনে ত্বকের যত্ন বেশি করতে হয়। কারন গরমের দিনে ত্বকে ধূলা জমে যায়। যা পরে ব্রণ দেখা দেয়। তাই গরমে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আলাদা যত্নের প্রয়োজন পড়ে। প্রতিদিন, সাপ্তাহিক এবং মাসিক ভিত্তিতে বাজারের কেনা পন্য এবং বাসায় তৈরী করা ফেস প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

যেভাবে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিতে হবে:-
তৈলাক্ত ত্বককে সুস্থ্য রাখতে হলে সব সময় ত্বককে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। যেভাবে আমরা তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিতে পারি তা হলো:-

  • প্রতিদিন কমপক্ষে ২ বার ( তবে ৩ বারের বেশি না) ভাল মানের ফেসওয়াস বা সাবান ব্যবহার করা। (যে সাবানে ক্ষারক নেই সে সাবান)।
  • কমপক্ষে সপ্তাহে ৩ দিন স্ক্রাব ব্যবহার করা। এটি ত্বককে গভীর ভাবে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
  • ত্বক পরিষ্কার করার পর হালকা ভাবে ত্বককে শুষ্ক করে একটি টোনার ব্যবহার করা।
  • এরপর লাইট ওয়েট ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা।
  • সানস্কিন ক্রিম ব্যবহার করা।
  • সপ্তাহে ২-৩ বার ফেস মাস্ক ব্যবহার করা।
  • মেকআপ করার পর মেকআপ ত্বক থেকে ভালভাবে তুলতে হবে। মেকআপ থেকে গেলে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • সপ্তাহে ২ বার হোম মেড ফেস প্যাক ব্যবহার করা।
  • মাসে ১বার ফেসিয়াল করা উত্তম।

ঘরোয়া উপায়ে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন:-

  • ভুট্টার গুঁড়ার প্যাক
    দুই টেবিল-চামচ ভুট্টার গুঁড়ার সাথে গরম পানি মিশিয়ে ঘন দ্রবণ তৈরি করে পুরো মুখে মেখে নিন। প্যাকটি ব্যবহারের পূর্বে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। ১৫-২০ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করতে পারেন। [ Bangla Blog বাংলা ব্লগ তৈরী করা শিখুন ]
  • মধুর প্যাক
    প্রাচীনকাল থেকে মধু ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হচ্ছে। তৈলাক্ত ত্বকের নানা রকমের সমস্যা, অস্বস্তিকর ‘ব্ল্যাকহেডস’ দূর করতে মধু সাহায্য করছে। এটি ত্বককে টানটান করে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। মধুর সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক বানানো হয়। যা মুখ, গলা ও হাত-পা সহ সমস্ত শরীরে ব্যবহার করা যায়। এটি লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • টমেটোর প্যাক                                                                                                                                                      টমেটোতে রয়েছে লাইকোপেন যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী উপাদান। এছাড়াও ভিটামিন এ এবং সি আছে। এটি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। টমেটোকে ত্বকের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিষ্কারক বলা হয়। ত্বকের অতিরিক্ত তেল, ব্ল্যাকহেডস এবং দাগ কমাতে সাহায্য করে। টমেটোর বীজ ফেলে টমেটোটিকে পেস্ট করে ত্বকে লাগাতে পারেন। সাথে মধু দেয়া যেতে পারে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখার পর তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতি সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করতে পারেন।
  •  কলার প্যাক                                                                                                                                                                   কলা, মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ত্বক আলতো করে মুছে ফেলুন।
  • কফির প্যাক                                                                                                                                                                 কফির সাথে মধু মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে তা মুখে ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই স্ক্রাবটি তৈলাক্ত ত্বককে এক্সফলিয়েট করতে বেশ কার্যকর।
  • অ্যালোভেরার প্যাক                                                                                                                                                অ্যালোভেরা ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী উপাদান। এটি ত্বককে যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। এটি কয়েক ভাবে ব্যবহার করা যায়। শুধু জেল সমস্ত শরীরে লাগানো যেতে পারে। আবার বিভিন্ন প্যাকের সাথে মিশিয়েও দেয়া যায়। সপ্তাহে ২-৩ দিন কাঁচা হলুদের সাথে, অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ২০-৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক উজ্জ্বল করে।
  • কমলার খোসা ব্যবহার                                                                                                                                              কমলার খোসা ত্বকের তৈলাক্ত নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে থাকে। এই ফলের খোসা শুকিয়ে বা ফ্রিজে রেখে সংরক্ষন করা যায়। পেষ্ট বা গুড়া পানি বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করা যায়। এই মাস্ক ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার করে এবং এর অ্যাস্ট্রিনজান্ট উপাদান ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করতে সাহায্য করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

  • লেবুর ব্যবহার                                                                                                                                                             সামান্য লেবুর রস, গোলাপজল এবং গ্লিসারিন মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলুন। এটি তৈলাক্ত ত্বকের নানা রকম সমস্যা (যেমন- ব্রণ, ফুস্কুড়ি এবং দাগ ইত্যাদি) সমাধান করে। লেবুতে রয়েছে এসিড। যা জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। সপ্তাহে ২-৩ দিন ত্বকের যত্নে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। [ বাংদেশে সংস্কৃতির বিভিন্ন ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন ]

তৈলাক্ত ত্বকের ভাল দিক তৈলাক্ত ত্বকে বলিরেখা কম দেখা যায়। তাই ত্বকে তাড়াতাড়ি বয়সের ছাপ পড়ে না।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, এ, ই এবং পানি পান করতে হয়। একটু অবাক লাগলেও সত্য যে, তৈলাক্ত ত্বকের ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন। আদ্রতা ও তেল দুটি সম্পূর্ন ভিন্ন। অন্যান্য ত্বকের মত তৈলাক্ত ত্বকও পানিশূন্য হতে পারে, তাই ত্বকের সুস্থতার জন্য আদ্রতার প্রয়োজন। এভাবে আমরা আমাদের তৈলাক্ত ত্বককে যত্ন নিতে পারি।

স্বাস্থ্য