পৃথিবীর আয়তন কত

 

পৃথিবীর আয়তন কত তা জানার আগ্রহের শেষ নেই। পৃথিবীকে আমরা কত নামেই না ডাকি ধরণী, ধরা, মহী, বসুন্ধরা, ধরিত্রী, দুনিয়া ইত্যাদি। এগুলো সব পৃথিবীর সমার্থক শব্দ। তবে এই পৃথিবী শব্দটি সংস্কৃতি থেকে এসেছে। সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব অনুযায়ী তৃতীয় আর এর ঘনত্ব সর্বাপেক্ষা অধিক এবং সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ। সৌরজগতের চারটি কঠিন গ্রহের মধ্য পৃথিবী অন্যতম। পৃথিবীর অপর নাম “বিশ্ব” বা “নীলগ্রহ”। ইংরেজি ভাষায় পরিচিত “আর্থ” নামে, গ্রিক ভাষায় পরিচিত “গাইয়া” নামে, এবং লাতিন ভাষায় এই গ্রহের নাম “টেরা”।

পৃথিবীতে মানুষ সহ কোটি কোটি প্রজাতি বাস করে। সৌরজগতের এই একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণীর চিহ্ন পাওয়া গেছে। আনুমানিক ৪৫৪ কোটি বছর আগে পৃথিবী গঠিত হয়েছিল। এক বিলিয়ন বছরের মধ্যেই পৃথিবীর বুকে প্রাণের আবির্ভাব ঘটে। একদিকে যেমন বায়ুজীবী জীবজগতের বংশবৃদ্ধি ঘটেছে, অন্যদিকে তেমনি ওজন স্তর গঠিত হয়েছে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে একযোগে এই ওজন স্তরই ক্ষতিকর সৌর বিকিরণের গতিরোধ করে গ্রহের বুকে প্রাণের বিকাশ ঘটার পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে।

পৃথিবীর উপরিতল একাধিক শক্ত স্তরে বিভক্ত হয়েছে যা ভূত্বকীয় পাত নামে পরিচিত। কোটি কোটি বছর ধরে এগুলি পৃথিবীর উপরিতলে এসে জমা হয়েছে। পৃথিবী তলের প্রায় ৭১% লবণাক্ত জলের মহাসাগর দ্বারা আবৃত। অবশিষ্টাংশে রয়েছে মহাদেশ ও অসংখ্য দ্বীপ। স্থলভাগেও রয়েছে অজস্র হ্রদ ও জলের অন্যান্য উৎস।

পৃথিবীর মেরুদ্বয় সর্বদা অ্যান্টার্কটিকা বরফের চাদরের কঠিন বরফ বা আর্কটিক বরফের টুপির সামুদ্রিক বরফে আবৃত থাকে। পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ সর্বদা ক্রিয়াশীল। এই অংশ গঠিত হয়েছে একটি আপেক্ষিকভাবে শক্ত ম্যান্টেলের মোটা স্তর, একটি তরল বহিঃকেন্দ্র (যা একটি চৌম্বকক্ষেত্র গঠন করে) এবং একটি শক্ত লৌহ আন্তঃকেন্দ্র নিয়ে গঠিত। মহাবিশ্বের অন্যান্য বস্তুর সঙ্গে পৃথিবীর সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে সূর্য ও চাঁদের সঙ্গে এই গ্রহের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

পৃথিবীর আয়তন

বর্তমানে পৃথিবী নিজ কক্ষপথে মোটামুটি ৩৬৫.২৬ সৌর দিন বা এক নক্ষত্র বর্ষে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবী নিজ অক্ষের ৬৬.১/২ ডিগ্রি কোণে হেলে রয়েছে। এর ফলে এক বিষুবীয় বছর (৩৬৫.২৪ সৌরদিন) সময়কালের মধ্যে এই বিশ্বের বুকে ঋতু পরিবর্তন ঘটে থাকে। বাংলাদেশের আয়তন কত- ২০২১ জানতে এখানে ভিজিট করুন।

পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হল চাঁদ। ৪.৩৫ বিলিয়ন বছর আগে চাঁদ পৃথিবী প্রদক্ষিণ শুরু করেছিল। চাঁদের গতির ফলেই পৃথিবীতে সামুদ্রিক জোয়ার-ভাঁটা হয় এবং পৃথিবীর কক্ষের ঢাল সুস্থিত থাকে। চাঁদের গতিই ধীরে ধীরে পৃথিবীর গতিকে কমিয়ে আনছে।

মানবজাতির জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য হলো গ্রহের খনিজ সম্পদ ও জৈব সম্পদ। এই গ্রহের অধিবাসীরা প্রায় ২০০ টি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে সমগ্র গ্রহটিকে বিভক্ত করে বসবাস করছে। এই সকল রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক কূটনৈতিক, পর্যটন, বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

পৃথিবীর আকৃতি অনেকটাই কমলাকার উপগোলকের মত। ঘূর্ণনের ফলে, পৃথিবীর ভৌগলিক অক্ষ বরাবর এটি চ্যাপ্টা এবং নিরক্ষরেখা বরাবর এটি স্ফীত। নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস মেরু থেকে মেরুর ব্যাসের তুলনায় ৪৩ কিলোমিটার বৃহৎ। তাই, পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর পৃথিবীর ভরকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বটি হল নিরক্ষরেখার উপর অবস্থিত চিম্বরাজো আগ্নেয়গিরির সর্বোচ্চ শৃঙ্গটি। আদর্শ মাপের উপগোলকের গড় ব্যাস হল ১২,৭৪২ কিলোমিটার (৭,৯১৮ মা:)  বাংদেশে সংস্কৃতির বিভিন্ন ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

স্থানীয় ভূসংস্থানে ব্যাসের মান আদর্শ উপগোলকের ব্যাসের মানের চেয়ে ভিন্ন হয়, যদিওবা সারা বিশ্বের কথা বিবেচনা করলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধের তুলনায় এই বিচ্যুতির মান অতি সামান্য: সর্বোচ্চ পরিমাণ বিচ্যুতির মান হল মাত্র ০.১৭%, যা পাওয়া যায় মারিয়ানা খাতে {যা ১০,৯১১ মিটার (৩৫,৭৯৭ ফু:) সমুদ্র পৃষ্ঠতল থেকে নিচে} আর অপরদিকে মাউন্ট এভারেস্টে {৮,৮৪৮ মিটার (২৯,০২৯ ফু:) যা সমুদ্র পৃষ্ঠতলের থেকে উঁচুতে} বিচ্যুতির মান ০.১৪%। পৃথিবীর আয়তন কত তা জানার চেষ্টায় কোন ঘাটতি নেই।

পৃথিবীর মোট আয়তন ৫১,০১,০০,৫০০ বর্গ কিলোমিটার।
পৃথিবীর স্থল ভাগের আয়তন ১৪,৮৯,৫০,৩২০ বর্গ কিলোমিটার (২৯%)।
পৃথিবীর জলভাগের আয়তন ৩৬,১১,৪৮,২০০ বর্গ কিলোমিটার (৭১%)।

পৃথিবীর মোট সমূদ্র এলাকার আয়তন ৩৩,৫২,৫৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
পৃথিবীর মোট উপকূল রেখার আয়তন ৩,৫৬,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
পৃথিবীর সর্বচ্চো বিন্দুর নাম মাউন্ট এভারেস্ট যার উচ্চতা ৮,৮৫০ মিটার।
পৃথিবীর মোট স্থল সীমা ২,৫০,৪৭২ কিলোমিটার।
পৃথিবীতে পানি কত প্রকার দুই প্রকার ১.লবনাক্ত ৯৭% ২.সুপেয় ৩%।
নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর পরিধি ৪০,০৬৬ কিলোমিটার।
মেরুরেখা বরাবর পৃথিবীর পরিধি ৩৯,৯৯২ কিলোমিটার।
নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস ১২,৭৫৩ কিলোমিটার।
নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ৬,৩৭৬ কিলোমিটার।
মেরুরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস ১২,৭১০ কিলোমিটার।
মেরুরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ৬,৩৫৫ কিলোমিটার।
পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
পৃথিবীর নিজ অক্ষে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট।
পৃথিবীর আবর্তনের গতি বেগ ৬৬,৭০০ মাইল/ঘন্টা বা ১,০৭,৩২০ কিলোমিটার।
সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব ১৪,৯৫,০০,০০০ কিলোমিটার প্রায়।
পৃথিবী যে যে উপাদান দিয়ে গঠিত লোহা ৩৫%, অক্সিজেন ২৮%, ম্যাগনেসিয়াম ১৭%, সিলিকন ১৩%, সালফার ২.৭%, নিকেল ২.৭%, ক্যালসিয়াম ১.২%,
অ্যালুমিনিয়াম ০.৪%।

পৃথিবী প্রায় আকারে অনেকটা গোলাকার, তাই যদি ব্যাসার্ধ জানা যায় তাহলে আনুমানিক আয়তন গণনা করা যাবে। আধুনিক বিজ্ঞানীদের কাছে এটি পরিমাপ করার জন্য অত্যাধুনিক পদ্ধতি রয়েছে তবে প্রাচীন গ্রীকরা এটি সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করে পরিমাপ করতেন। পৃথিবীর আয়তন কত তা জানার চেষ্টায় গবেষনায় এখনও মগ্ন বিজ্ঞানীরা।

আন্তর্জাতিক