পৃথিবী সৃষ্টির আসল রহস্য

পৃথিবী সৃষ্টির আসল রহস্য কী? পৃথিবী সৃষ্টির আসল রহস্য সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপাদান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যাচ্ছেন। তাদের গবেষণার সুবিধার্থে তারা তৈরি করেছেন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি। ওবায়দুল গনি চন্দনের লেখা এল.এইচ.সি প্রজেক্ট থেকে জানা যায় যে বিজ্ঞানিরা এল.এইচ.সি নামক যন্ত্র আবিষ্কার করেন। যা থেকে বিজ্ঞানিরা আশা করছেন পৃথিবীর আসল রহস্য জানা যাবে।

সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্য পৃথিবীই হচ্ছে একমাত্র গ্রহ যেখানে মানুষ বসবাস করে। মহাকাশে রয়েছে ছায়াপথ, নিহারিকা, গ্রহাণু আরো কত কি!! আর সব কিছু নিয়েই গঠিত এই মহাবিশ্ব। এখন কথা হচ্ছে পৃথিবীর আসল রহস্যের তত্ত্বটি কতটুকু সঠিক। হ্যাঁ, এই তত্ত্বের সঠিক রহস্য বের করার জন্য বিজ্ঞানিরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এলএইচসি কি?
এল.এইচ.সি একটি সংক্ষিপ্ত নাম যার পূর্ণরূপ হলো- Large Hadron Collider। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ যন্ত্র। যার ওজন ৩৮ হাজার টন এবং দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। এটি মূলত একটি বৃত্তাকার টানেল বা সুড়ঙ্গ, যা সুইডেন এবং ফ্রান্সের সীমান্ত বরাবর ১০০ মিটার মাটির নিচে অবস্থানরত। এই প্রজেক্টটি পরিচালনা করছেন ইউরোপীয় নিউক্লিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান CERN (European Council for Nuclear Research) এবং এর পেছনে কাজ করছে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা, প্রকৌশলীরা এবং সাথে বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।

২০১২ ইং সালে এল.এইচ.সি প্রজেক্টটিতে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা চালিয়েছেন। এর আগে ২০০৮ সালে একবার এই পরীক্ষাটি চালানো হয়েছিল যা টানেলের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারনে তা স্থগিত থাকে।

এল.এইচ.সি প্রজেক্টের মাধ্যমে যে বিষয়গুলো জানা যায় তা হল:-
পৃথিবী সৃষ্টির প্রকৃত রহস্য
বিগব্যাংয়ে প্রকৃতপক্ষে কি হয়েছিল
পারমাণবিক কণার ভর সম্পর্কিত তথ্য
মৌলিক উপাদান যা দিয়ে পৃথিবী তৈরি।

চাঁদ তৈরির রহস্য
অনেকটা মঙ্গলের আকৃতির একটা গ্রহাণুর সাথে সংঘর্ষ হয় পৃথিবীর। যা “থিয়া” নামে পরিচিত। তখন পৃথিবী মোটামুটি আস্তই থাকলেও কিন্তু থিয়া বায়ুমণ্ডল মিশে যায় আর ধ্বংস হয়ে যায়। আর এই ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয় চাঁদ।

গলিত লাভা থেকে সমুদ্র
এখনকার মত শুক্র গ্রহের অবস্থা ছিল তখনকার পৃথিবীর অবস্থা। যা থিয়ার সাথে সংঘর্ষ হওয়ার ফলে হয়েছে। পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং টগবগ করে ফুটতে থাকে যা গলিত লাভার সমুদ্রে পিরনত হয়। এরপর গলিত লাভা আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা হয়ে জমাট বেঁধে তৈরি করে পাথর আর জল জমে সৃষ্টি হয় সাগর-মহাসাগর। আর সেই সময়ে তৈরি হয় পৃথিবীর প্রাচীনতম খনিজ, জিরকন যার বয়স প্রায় ৪.৪ বিলিয়ন বছর।

সর্বপ্রথম মহাদেশ
আজ থেকে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে তৈরি হয়েছিলো প্রথম মহাদেশ। আর এই মহাদেশ বসে আছে টেক্টোনিক প্লেটের ওপর। কিন্তু আদিম টেক্টোনিক প্লেট ছিল আকৃতিতে ছোট। টেক্টোনিক প্লেটের মাঝে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ-রৌপ্যের মতো দামি ধাতু।

প্রথম অক্সিজেন
প্রথম অক্সিজেনের উপস্থিত হয় প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে। যা সালোক সংশ্লেষণ থেকে আসে। প্রথমে পাথরের ওপরে জন্মানো সায়ানো ব্যাকটেরিয়া বা নীলচে সবুজ শ্যাওলা থেকে অক্সিজেন পাওয়া যায়। তবে এই অক্সিজেনের উপস্থিত সহ্য করতে না পেরে কিছু ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। প্রায় ২.৪ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে অক্সিজেন অনেক বেশি বেড়ে যায়। তাই এই অক্সিজেনের নাম দেয়া হয় “Great Oxygenation Crisis”

আরও জানুন পৃথিবীর বয়স কত

পৃথিবী সৃষ্টির আসল রহস্য

প্রাণের অবনতি এক বিলিয়ন বছর
এক বিলিয়ন বছরে প্রথম মহাদেশে তেমন কিছুই ঘটেনি পৃথিবীতে। একঘেয়েমি একটা সময় ছিল। মহাদেশগুলো আটকে ছিল কোনো নড়াচড়া করেনি যা অনেকটা ট্রাফিক জ্যামের মত। প্রাণেরও উন্নতি ঘটেনি।

মহাদেশ তৈরী
প্যানগায়া হলো একটি অন্যতম মহা-মহাদেশ। প্যানগায়া থেকে তৈরী হয় অনেকগুলো মহাদেশ।

ভয়ংকর হিমবাহ
হঠাৎ করে বড় একটা মহাদেশের সন্ধান মেলে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন বছর আগে যা অন্য সকল মহাদেশ থেকে আলাদা। তখন হিমবাহ দিয়ে ঢাকা ছিলো ভূপৃষ্ঠ। এমনকি সেই সময় বিষুবীয় অঞ্চল ছিল হিমবাহ এবং সে সময়ে পৃথিবী একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে যায় যা একটা বিশাল বরফের গোলায় রূপান্তরিত হয়।

প্রানীর উদ্ভব
এক কোষী প্রাণী সৃষ্টির পাশাপাশি বহুকোষী প্রাণী সৃষ্টি হয়। প্রাণীদের মাঝে শিকার এবং শিকারীর উদ্ভাবন ঘটে। তবে আবারো বায়ুমন্ডলে অক্সিজেনের মাত্রা বেড়ে যায় প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন বছর আগে।

প্রাণীর বিলুপ্তি
পারমিয়ান পিরিয়ডে প্রায় ২৫২ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিলুপ্তির ঘটনা ঘটে। প্রায় ৯০ শতাংশ জীবের বিলুপ্তি ঘটে মাত্র ৬০ বছরে। ডায়নোসর সহ ৮৫ শতাংশ জীবের বিলুপ্তি ঘটে প্রায় ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে ক্রেটেশাস পিরিয়ডে। আর এই পারমিয়ান পিরিয়ডে বিলুপ্তির মূল কারন হলো সাইবেরিয়ায় এক বিশাল অগ্ন্যুৎপাত। অন্যিদকে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন বছর আগে বিশাল একটা তুষার যুগে প্রায় ৭৫ শতাংশ জীবের বিলুপ্তি হয়। মূলত পরিবেশ পরির্বতনের কারনে বার বার বিলুপ্তি ঘটে।

বরফের যুগ
আজ থেকে প্রায় ১১,৫০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল বরফ যুগ। পৃথিবীর ইতিহাসে মোট পাঁচটি বরফ যুগ রয়েছে। তবে আমরা এখনও বরফ যুগে বাস করছি।

প্লাস্টিকের যুগ
বর্তমান সময়ে আবর্জনার মূল এতটি অংশ হচ্ছে প্লাস্টিক। তাই অনেক বিজ্ঞানী একে প্লাস্টিক যুগ বা প্লাস্টিসিন পিরিয়ড বলে থাকেন। কিছু প্লাস্টিক নতুন এক ধরনের পাথরে রূপান্তরিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজ থেকে মিলিয়ন বছর পরে আবার প্লাস্টিকের চিহ্ন দেখা যাবে পৃথিবীতে।

যদিও এই পর্যন্ত পৃথিবী সৃষ্টির শুরুর দিকের কোনো পাথর পাওয়া যায় নি তাই পৃথিবী সৃষ্টির রহস্যও সঠিক ভাবে পাওয়া যায় নি। তবে ধারণা করা হয় যে সৌরজগৎ সৃষ্টির প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছর পর বিভিন্ন সংঘর্ষের কারনে সৃষ্টি হয় পৃথিবীর। আজ থেকে প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী নামের গ্রহটি আকৃতি পেয়েছে, যা লৌহের একটি কেন্দ্র এবং একটি বায়ুমণ্ডল দ্বারা বেষ্টিত।

আন্তর্জাতিক