ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ – freelancing work bangla

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ – freelancing work bangla.  ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ এক সময় ইন্টারনেট ছিল বড়লোকেদের বিলাসিতার দ্রব্য। সময়ের পরিবর্তনে ইন্টারনেট এখন বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পাড়ার মুদি দোকান অবধি ছড়িয়ে গেছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেকে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত করতে পারবেন। বর্তমানে তরুন সমাজে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় শব্দ। ফ্রিল্যান্সিং করে তরুনরা তাদের ভবিষ্যৎ আলোকিত করতে পারছে। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে অনেক ডিগ্রীর প্রয়োজন হয় না। শুধু মাত্র কম্পিউটারের উপর দক্ষ হতে হবে। ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং করা যায়।

ফ্রিল্যান্সিং কী? ফ্রিল্যান্সিং এর যাত্রা ১৯৯৮ সালে শুরু হয়। তখন ফ্রিল্যান্সিং এতোটা জনপ্রিয় ছিল না এখন যতোটা জনপ্রিয়। এটি ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে কাজ করা হয়।

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মুক্ত পেশা। যেখানে ধরাবাধা কোনো সময় নেই। যখন ইচ্ছা কাজ করা যায়। ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক গুলো সেক্টর রয়েছে। সেই সব সেক্টরে কজ শিখে ক্লায়েন্টের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করা হয়। কীভাবে একটি প্রফেশনাল ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন দেখতে এখানে ক্লিক করুন 

বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে অনলাইনের মাধ্যম কাজ করা যায় এবং ইংলিশে দক্ষ হতে হয়।

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ
ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক গুলো কাজের উৎস রয়েছে। আপনি যেকোনো কাজে দক্ষ হয়ে অনলাইনে কাজ করতে পারবেন। কাজ সমূহ হচ্ছে –
ডিজাইনিং
ডিজাইনিং করার অনেক গুলো মাধ্যম আছে। ডিজাইন করতে হলো কিছু সফটওয়্যার সম্পর্কে জানতে হবে ভাল করে। ডিজাইনের মাধ্যম গুলো-

প্রেজেন্টেশন
ফটোগ্রাফী
অ্যানিমেশন
লোগো ডিজাইন
ইলাস্ট্রেশন
গ্রাফিক্স ডিজাইন
ব্যানার ডিজাইন
ইউআই/ইউএক্স ইত্যাদি

রাইটিং
এই কাজটি করতে হলে আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে। কারণ আপনাকে বিভিন্ন ধরনের টপিক এর উপর লিখতে হবে। আপনাকে ক্লায়েন্ট যে টপিক দিবে সেটির উপর পূর্ণ ধারনা নিয়ে লিখতে হবে। যেকোনো টপিকের উপর লিখতে পারেন।

বিজনেস প্লান রাইটিং
ক্রিয়েটিভ রাইটিং
একাডেমিক রাইটিং
ওয়েবসাইট কনটেন্ট রাইটিং
টেকনিক্যাল রাইটিং
সি.ভি ও কভার লেটার রাইটিং
গ্রান্ট রাইটিং
কপিরাইটিং
অ্যার্টিকেল ও ব্লগ পোস্ট রাইটিং ইত্যাদি

অডিও এবং ভিডিও প্রোডাকশন
ভিডিও কেনা বেচা করে ইনকাম করা যায়। আপনি যদি ভাল ভিডিও তৈরি করতে পারেন তাহলে ভিডিও নিয়ে কাজ করতে পারবেন। অন্যদিকে আপনি ভিডিও এডিট করতে পারলেও জব পাওয়া যাবে।

অ্যাডমিন জবস
মূলত ডাটা এট্রি, ওয়েব রিসার্চ ইত্যাদি কাজকে অ্যাডমিন জবস বলা হয়। যেমনঃ

ডাটা এট্রি
ট্রান্সক্রিপশন
ভারচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স
প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট
ওয়েব রিসার্চ ইত্যাদি

ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট
আপনি যদি কোডিং এ ভাল করতে পারেন। তবে আপনি ওয়েব ডিজাইনি এবং সফটওয়ার ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে পারেন। এই ধরনের কাজে আয় বেশি হয়। একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করলে অধিক আয় হয়।

ট্রান্সলেশন জবস
আপনি যদি বিভিন্ন ধরনের ভাষা জেনে থাকেন তাহলে আপনি আয় করতে পারবেন খুব সহজে। ক্লায়েন্ট যে ভাষায় কন্টেন্ট ট্রান্সলেট করতে দিবে আপনাকে সেই ভাষায় করে দিতে হবে।

এছাড়াও রয়েছে

কনসালটেশন এবং অ্যাকাউন্টিং
ডাটা সাইন্স ও এনালাইটিক্স
আইটি ও নেটওয়ার্কিং
কাস্টমার সার্ভিস
সেলস এবং মার্কেটিং
ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার ইত্যাদি

এখানে আপনাকে যে কোনো কাজে দক্ষ হতে হবে নতুবা কাজ পাওয়া যাবে না।

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ – freelancing work bangla কোথায় পাওয়া যাবে?
এক কথায় বলতে, ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ মার্কেটপ্লেসে পাওয়া যায়। বর্তমানে অনলাইন দুনিয়াতে অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। প্রত্যেক মার্কেটপ্লেসের ধরণ আলাদা আলাদা। জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলো হচ্ছে – ফাইবার, আপওয়ার্ক, ফ্রিপিক, ৯৯ ডিজাইন, ফ্রিল্যান্সার ইত্যাদি।

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ - freelancing work bangla

মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ নেয়ার জন্য ক্লায়েন্ট বা বায়ারের নিকট আবেদন করতে হয়। তারপর কাজ পেলে কাজ করে ফাইল জমা দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ পাঠানো হয়। গ্রাম বাংলার বিভিন্ন ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ – freelancing work bangla কাজ কোথায় শিখব?
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শেখার অনেক মাধ্যম রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং শেখার আগে আপনাকে কম্পিউটারের বেসিক জানতে হবে। এরপর আপনি যে কাজটি করতে পারবেন বা আপনি যে কাজ শিখতে চান তা সিলেক্ট করতে হবে।

এখন ইউটিউবে সকল কাজের টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। আপনি ওখান থেকে শিখতে পারবেন। যারা কাজ জানে বা অভিজ্ঞ তাদের কাছে কাজ শিখতে পারবেন। তাছাড়াও বিভিন্ন ভালমানের প্রতিষ্ঠান আছে। এগুলোতে কাজ শিখতে পারবে।

কাজ সমূহ হচ্ছে – ডিজাইনিংফ্রিল্যান্সিং করবেন কেন?
বর্তমান বিশ্বে বেকারত্বের হার বেড়েই চলেছে। তাই এটি একটি অন্যতম সমস্যা। পড়াশোনা বা চাকরির পাশাপাপি বা চাকরি চেষ্টাকৃত সময়ে ঘরে বসে উপার্জন করার অন্যতম উপায় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।

আপনি যদি ইংলিশ ভাল পারেন। তাহলে যে কোনো নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে কাজ শিখে মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট করে কাজ করতে পারবেন। পড়াশোনা পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করলে পড়াশোনা শেষে চাকরি পর্যায়ে আপনার কাজের কনফিডেন্স বেড়ে যাবে।

তাছাড়া যদি আপনি ইতিমধ্যে কোনো কাজের সাথে যুক্ত থেকে থাকেন সেক্ষেত্রেও অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। গৃহিনীরা কাজ শিখে সহজেই ঘরে বসে কাজ করতে পারেন। অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি তার ক্যারিয়ারে কিছু করার স্বপ্ন পূরণ হবে।

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ – freelancing work bangla থেকে অর্থ উত্তোলন
ফ্রিল্যান্সিং যেহেতু বিশ্বব্যাপী কাজ করা হয়। তাই একেক দেশের কারেন্সি একেক রকম হয়। এই কারেন্সি বা অর্থ নিজ দেশে আনতে ব্যাংক সাহায্য করে। ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পেয়ে থাকে।

সাধারণত ফ্রিল্যান্সিং করা হয় বিভিন্ন অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো বিশ্বব্যাপী কাজ করার ফলে তারা পেমেন্ট হিসাবে USD ব্যবহার করা হয়। বিশ্বে বেশ কয়েকটি পেমেন্ট সিস্টেম রয়েছে সেগুলির মাধ্যমে আপনি আপনার উপার্জেনের অর্থ নিজের কারেন্সিতে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

ফ্রিল্যান্সিং এ একটি প্রজেক্টে কাজ করার জন্য $5 থেকে শুরু করে $1000 বা তারও বেশি টাকা উপার্জন করা যেতে পারে। কাজের ধরন এবং পারদর্শীতার উপর নির্ভর করে কাজের মূল্য।

ফ্রিল্যান্সিং স্বাধীন পেশা হওয়ায় আপনি ঘরে বসে যে কোনো সময় যে কোনো বয়সে কাজ শিখে কাজ করতে পারবেন। এটি যেমন ঘরে বসে কাজ করা যায় ঠিক তেমনি ঘরে বসে কাজ শেখা যায়। বর্তমানে এই পেশায় কাজ করার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি চাইলে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে ধারনা নিয়ে কাজ শিখে কাজ শুরু করতে পারেন।

অনলাইন আয়