বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, প্রতিটি দেশের জাতীয় সংগীত সে দেশের পরিচয় বহন করে। একটি দেশের ইতিহাস, অবস্থান, সৌন্দর্য তুলে ধরে। প্রতিদিন সকালে স্কুল, কলেজ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং দেশের বিশেষ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। জাতীয় সংগীত এর মাধ্যমে একটি দেশের জাতিকে সম্মান দেয়া হয়।

আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত এর মধ্য “সোনার বাংলা” কথাটিতে বাঙালীর মূল্যবোধ প্রকাশ পায়। বাংলার সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়েছে এবং ফসল তোলার আগে ধানক্ষেতের সোনালী রঙকে তুলনা করা হয়েছে। নদীর কুল যেন বটমূলের ছায়ায় আচ্ছাদিত। জাতীয় সঙ্গীতে একটি জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা ও গৌরবের প্রতিফলন ঘটায়।

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত

আমার সোনার বাংলা সম্পূর্ণ গানটি লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই গানের প্রথম দশ লাইন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। [ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে এখানে ক্লিক করুন ]

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি॥
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে—
ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি॥

কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো—
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,
মরি হায়, হায় রে—
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি॥

জাতীয় সংগীত ঘোষনা
স্বাধীন বাংলার কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১লা মার্চ । ৩রা মার্চ ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পল্টন ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষের দিকে স্বাধীনতার ইশতেহারে এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এই গান প্রথম জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গাওয়া হয়, ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে।

জাতীয় সংগীত রচনাকাল
আমার সোনার বাংলা গানটি (যা বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত) রচিত হয়েছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে। গানটির প্রধান কপি বা পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় নি, আর এ জন্যই এর সঠিক রচনাকাল এখনও জানা যায় নি। [  বাংদেশে সংস্কৃতির বিভিন্ন ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন ]

সত্যেন রায়ের রচনা থেকে জানা যায়, ১৯০৫ সালের ৭ই আগস্ট কলকাতার টাউন হলে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় এই গানটি প্রথম গাওয়া হয়েছিল। তবে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার এটাও শোনা যায় যে, বিশিষ্ট রবীন্দ্র জীবনীকার প্রশান্ত কুমার পালের মতে, আমার সোনার বাংলা ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে আগস্ট কলকাতার টাউন হলে অবস্থা ও ব্যবস্থা প্রবন্ধ পাঠের আসরে প্রথম গাওয়া হয়েছিল।

১৯০৫ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর (১৩১২ বঙ্গাব্দের ২২শে ভাদ্র) সঞ্জীবনী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের স্বাক্ষরে গানটি মুদ্রিত হয়। শিলাইদহের ডাকপিয়ন গগন হরকরা রচিত “আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে” গানটির সুরের অণুষঙ্গে সংগীতটি রচিত হয়।

২০১৪ইং সালের ২৬শে মার্চ, জাতীয় প্যারেড ময়দান- ঢাকা, বাংলাদেশে একসঙ্গে ২,৫৪,৫৩৭ জন জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মাধ্যমে গিনেস বিশ্ব রেকর্ড করে। বিবিসি বাংলায় সেরা ২০টি বাংলা গানের মধ্যে জাতীয় সংগীত ১ নাম্বারে রয়েছে।

জাতীয়