মধুর উপকারিতা

মধুর উপকারিতা বলে শেষ নেই। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যাবতীয় রোগ নিরাময়ে মধুর গুণ অপরিসীম। রাসূলুল্লাহ (সা.) একে মহৌষধ বলেছেন। আয়ুর্বেদ এবং ইউনানি চিকিৎসা শাস্ত্রেও মধুকে বলা হয় মহৌষধ। এটা যেমন বলকারক, সুস্বাদু ও উত্তম উপাদেয় খাদ্যনির্যাস, তেমনি নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্রও। আর তাই তো খাদ্য ও ওষুধ এ উভয়বিধ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ নির্যাসকে প্রাচীনকাল থেকেই পারিবারিকভাবে ‘পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক’ পানীয় হিসেবে সব দেশের সব পর্যায়ের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ব্যবহার করে আসছে।যৌন সমস্যায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে মধু। যৌন শক্তি বাড়াতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩/৪ দিন ১ গ্লাস গরম পানিতে ১ চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে পান করুন।

পবিত্র কোরআনে মধুর কথা
আরবি পরিভাষায় মধুপোকা বা মৌমাছিকে ‘নাহল’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে এই নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা বিদ্যমান আছে। সূরা নাহল এর আয়াত ৬৯-এ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- “ইয়াখরুজু মিমবুতুনিহা শারাবুম মুখতা লিফুন আল্ওয়া নহু ফীহি শিফাউল লিন্নাসি।”
অর্থ : তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। মধু হচ্ছে  ওষুধ এবং খাদ্য উভয়ই। মধুকে বলা হয়- বিররে এলাহি ও তিব্বে নব্বী। অর্থাৎ খোদায়ী চিকিৎসা ও নবী করীম (সা.)- এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত। সূরা মুহাম্মদ- এর ১৫ আয়াতে আল্লাহ তায়ালার এরশাদ হচ্ছে- “জান্নাতে স্বচ্ছ মধুর নহর প্রবাহিত হবে।”

হযরত জাবীর (রা) হতে বর্ণিত আছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছেন, তোমাদের ওষুধগুলোর মধ্যে কোনগুলোতে যদি শিফা থেকে থাকে তবে সেগুলো হচ্ছে শিঙ্গা লাগানো, মধু পান এবং আগুনের দাগ নেয়া, যেটা যে রোগের জন্যে উপযুক্ত। তবে আমি দাগিয়ে নেয়াকে পছন্দ করি না। (সহীহ আল বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ৬১৭/২০৩২)

হাদিস মধুর গুণাগুণ:-
পবিত্র হাদিস শরিফে মধু সম্পর্কে প্রচুর উল্লেখ আছে। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা:)- এর মতে সকল পানীয় উপাদানের মধ্যে মধু সর্বোৎকৃষ্ঠ। তিনি বলেন মধু এবং কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের চিকিৎসা নেয়া উচিত। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাকেম)
হজরত আবু হুরায়রা (রা:) বলেন যে, “রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন- যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে তিন দিন ভোরে মধু চেটে খায় তার কোন বড় বিপদ হতে পারে না।” -(ইবনে মাজাহ, বয়হাকী)
রাসূলুল্লাহ (সা:) স্বয়ং সকাল বেলা খালি পেটে মধুর শরবত পান করতেন। যারা নিয়মিত ভাবে মধুর শরবত পান করতে না পারবে তাদের জন্য তিনি বলেন- যে ব্যক্তি মাসে তিন দিন সকাল বেলা মধু চেটে সেবন করবে, ওই মাসে তার কোন কঠিন রোগব্যাধি হবে না। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন- যে কেহ আরোগ্য কামনা করে, তার ভোরের নাশতা হিসাবে মধু মিশ্রিত পানি পান করা উচিত।

এক লোক হজরত মুহাম্মদ (সা:) এর নিকট এসে তার ভাইয়ের পেটের সমস্যার কথা জানালেন। রাসূল পাক (সা:) বললেন, তাকে মধু খাওয়াও। লোকটি দ্বিতীয় দিন আসলেন হুজুর (সা:) বললেন, মধু খাওয়াও। লোকটি তৃতীয় দিনেও এসে বললেন, হুজুর (সা:) আমি তাকে মধু খাইয়েছি। হুজুর (সা:) বললেন, আল্লাহ তায়ালা সত্য বলেছেন; তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলছে। তাকে মধু খাওয়াও। তারপর মধু খাওয়ানোতেই তার পাকস্তলীর সমস্যা ভালো হলো (বুখারি)।

বাংলাদেশে সাধারণত সরিষা ফুলের মধু ও বিভিন্ন ফুলের মধু পাওয়া যায়। ডিসেম্বর এর শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রূয়ারি পর্যন্ত কর্মী মৌমাছিরা মধু সংগ্রহের কাজ করে থাকে। বর্তমানে অনেক ব্যবসায়ী মধু ব্যবসার দিকে ঝুকছে। তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন কিভাবে নিবেন জানতে ক্লিক করুন।

মধুর উপকারিতা

নিচে মধুর উপকারিতা উল্লেখ করা হলোঃ

১। শারীরিক শক্তি প্রদান করে।
২। পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখে।
৩। শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর করে।
৪। ফুসফুসের ও লিভার ভালো রাখে।
৫। ঘুম না আসলে ঘুম আসতে সাহায্য করে।
৬। শরীরের ক্ষতস্থানের ঘা শুকাতে সাহায্য করে।
৭। মধু রুপচর্চায় ব্যবহৃত হয়। যেমন মুখের ব্রন বা মেছতা দূর করা যায়।
৮। গরম পানির সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন খেলে শরীরের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
৯। মানুষের গলার সুর ভালো রাখতে মধুর সাথে আদা খেলে ও রেওয়াজ করলে গলার সুর ভালো থাকে।
১০। মধু শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে ও শরীর গরম রাখে।
১১। যৌন বিষয়ক বিভিন্ন রোগের ও যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে মধুর ভুমিকা অপরিহার্য।
১২। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিজেন যা রক্ত পরিষ্কার রাখে।
১৩। মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালরি ও ভিটামিন।
১৪। যাদের পুরাতন ব্যাথা আছে তাদের মধু ব্যবহারে উপশম হয়।
১৫। ডাইরিয়া হলে 1 লিটার পানিতে 50 গ্রাম মধু মিশিয়ে খেলে ডাইরিয়া কমে যায় ।
১৬। জ্বর বা ঠান্ডা লাগলে খেতে পারেন এতে আপনার কাশি সহ ঠান্ডা অনেকটাই কমে আসবে।
১৭। শীতে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা কম থাকে তাই মধু খেলে শরীর গরম থাকে।

এছাড়াও মধুর উপকারিতা আরও অনেক। বর্তমানে অনেক কৃষক তাদের জমির পাশে মৌমাছি পালন শুরু করেছে।মৌমাছি সহ যে সকল পোকা বা প্রাণী আছে। এরা একটি ফসলের থেকে আরেকটি ফসলে ঘুরে বেড়ায় ফলে পরাগয়নে সহায়তা হয় আর মৌমাছি তাদের মৌচাকের জন্য মধু সংগ্রহ করতে পারে। বর্তমানে অনেক জায়গায় বান্যিজিকভাবে মধু উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। ওজন কমাতে সঠিক ডায়েট জানতে ভিজিট করুন

খাটি মধু চেনার উপায় হলোঃ

খাটি মধুতে আপনি নাকের কাছের নিলে কোন রকম গন্ধ পাবেন না। মধু সংগ্রহের জন্য পিজারভেটিভ বা কোন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না তাই মধু থাকে সম্পূন প্রাকৃতিক ও নির্ভেজাল। মধুতে প্রায় 45-46 টি খাদ্য উপাদান থাকে। খাটি মধু ড্রপ বা চামচ দিযে গ্লাসের পানিতে দিলে তা সরাসরি গ্লাসের নিচে চলে যায়।এছাড়াও বল্টিং পেপারে মধু রাখলে মধু কখনোই শোষিত হবে না। কেটো ডায়েট সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকার আশেপাশের মধুগুলো সবার মুখে মুখে পরিচিতো । সুন্দরবন বা বাগেরহাটের এলাকায় একদল মানুষ এই মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবন এর ভেতরে প্রবেশ করে। তারা তাদের জীবনকে এক প্রকার উৎসর্গ করেই এ কাজে নামে। সুন্দরবনে রয়েছে পৃথিবীর সব থেকে পরিচিত প্রানী রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এই বাঘের বনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকে হয়েছে বাঘের খাবার তবে অনান্য এলাকার চাইতে সুন্দরবনের মধু অনেকটাই বিখ্যাত বলা চলে। সুন্দরবনের বিভিন্ন ফুল ও ঝোপ খেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে। যেহুতু মধুর আছে  শুধু উপকারিতা কোন ক্ষতিকারক দিক নেই তাই নিয়মিত মধু সেবনে আপনার শরীর ও মন থাকবে
সতেজ ও উৎফুল্ল।

স্বাস্থ্য