মোবাইল ফোনের অপকারিতা

মোবাইল ফোনের অপকারিতা অনেক। বর্তমানে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইলের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার জন্য অ্যালার্ম দেয়া থেকে শুরু করে সারা দিন বিভিন্ন কাজে আমরা এর প্রয়োজনীতা অনুভব করি। বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ করা, সময় দেখা, পত্রিকা পড়া, ছবি তোলা, ভিডিও ধারন করা, ভিডিও দেখা, বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানো থেকে শুরু করে অনেক কিছুই করে থাকি। দিনের সব আপডেট তথ্য আমরা এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই পেয়ে থাকি। কিন্তু এত প্রয়োজনীতার চাপে আমরা এর ক্ষতিকর দিকগুলি উপেক্ষা করছি। মোইবাইল কিভাবে আমাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা খুবই কম।

সুতরাং মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই জানা থাকা উচিত মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের কি কি
ক্ষতির কারন হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ব্যবহার করার ফলে ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যের ওপর নানা ধরনের প্রভাব পড়ে।
অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতি নিয়ে গবেষণাও করা হচ্ছে। একাধিক গবেষণায় জানা যায় অতিরিক্ত ব্যবহারে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় পড়ছেন ব্যবহারকারীরা।

মোবাইল ফোনের অপকারিতা

মোবাইল ফোনের অপকারিতা নিম্নে তুলে ধরা হলো:-

 

১. চোখের জ্যোতি কমতে পারে

যুক্তরাজ্যের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে দৃষ্টি বৈকল্য সৃষ্টি হতে পারে।
এতে করে মায়োপিয়া বা ক্ষীণ দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সাধারণত চোখ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দূরত্ব বজায় রেখে তা ব্যবহার করেন। তবে, অনেকের ক্ষেত্রে এ দূরত্ব মাত্র ১৮ সেন্টিমিটার। সংবাদপত্র, বই বা কোনো কিছু পড়ার ক্ষেত্রে সাধারণত চোখ থেকে গড়ে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব থাকে। চোখের খুব কাছে রেখে অতিরিক্ত সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে জিনগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্ষীণদৃষ্টি সৃষ্টির জন্য যা ভূমিকা রাখতে সক্ষম। গবেষকেরা একে ‘এপিজেনেটিকস’ সংক্রান্ত বিষয় বলেন। গবেষকেরা দীর্ঘক্ষণ ধরে মোবাইল ফোনে চোখ না রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিদিন কিছু সময় মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স বিবেচনার  ষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা।

২. শুক্রাণু কমে যেতে পারে

গবেষকেরা জানান, মোবাইল ফোন থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর তরঙ্গের সঙ্গে মস্তিষ্কে ক্যানসারের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোষকলা এই ক্ষতিকর তরঙ্গের প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। আরও ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে পুরুষের প্রজননতন্ত্রেরও। গবেষকেদের দাবি,মোবাইল ফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে এবং শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

৩. টয়লেট সিটের চেয়েও নোংরা

মার্কিন এক গবেষনায় দেখা গেছে, টয়লেট সিটের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে মোবইল ফোনে। কারন মোবাইল ফোন নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এটি জীবাণুর অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। গবেষকেরা বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যাকটেরিয়াগুলো ব্যবহারকারীর জন্য খুব বেশি ক্ষতিকারক না হলেও এটি থেকে সংক্রমণ বা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিয়মিত মোবাইল ফোন পরিষ্কার করলে এ সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।

৪. শ্রবন শক্তি কমে যেতে পারে

মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে কানের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা হেডফোন ব্যবহার করে উচ্চশব্দে গান শোনেন তাদের অন্তকর্ণের কোষগুলোর ওপর প্রভাব পরে এবং মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক আচরণ করে।

৫. ঘুমের মধ্যে প্রভাব

মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ঘুমের মধ্যেও প্রভাব ফেলে। বেশিরভাগ ছেলে মেয়েরা কল ও টেক্সট করার জন্য রাতে মোবাইল ফোন কাছে নিয়ে ঘুমান। মনোবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ, ফোন নিয়ে দিন কাটানো, এমন অবস্থায় স্লিপ টেক্সটিং ঘটতে পারে। রাতে বিছানার পাশে মোবাইল ফোন না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।

৬. ব্রেইন ক্যান্সার

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে ফোনে কথা বলার কারনে মোবাইল ফোন থেকে নির্গত তেজষ্ক্রিয় রশ্মি আমদের মস্তিষ্কের কোষগুলিতে ধীরে ধীরে শোষিত হয়। এর থেকে ব্রেইন টিউমার হতে পারে। ওয়াল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন সেল ফোনের সৃষ্ট বেতার তরঙ্গকে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বলে গণ্য করেছে। মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে ব্রেইন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। ঘুমানো সময় মোবাইল দূরে রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. হার্টের সমস্যা

গবেষণায় প্রমাণিত যে, মোবাইল ফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকারক রশ্মি হার্টের রোগের সৃষ্টি করে। এই রশ্মি হার্টের স্বাভাবিক কর্মকান্ডকে বিপর্যস্ত করে। রক্তে থাকা হিমোগ্লোবিন আলাদা হয়ে যেতে থাকে যার ফলে হার্টের পাশাপাশি শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। তাই ডাক্তাররা হার্টের রোগীদের মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

৮. মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়

বর্তমানে কিশোর কিশোরীরা পড়াশুনো বা অন্যান্য কাজ কর্ম বাদ দিয়ে প্রায় সারা দিনটাই মোবাইল ফোনে কল, চ্যাটিং, বার্তা প্রদান করে সময় কাটায়। গবেষনায় প্রমাণিত কিশোর-কিশোরীরা বেশিরভাগ মোবাইল ফোনে সময় কাটানোর ফলে মানসিক তীব্র চাপ ও ক্লান্তিতে ভোগে। যার ফলে মানসিক রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

৯.গর্ভবস্থায় সমস্যা

গর্ভবস্থায় মহিলাদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন- গর্ভস্থ ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যহত হয় এছাড়াও বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

১০. স্নায়বিক ঝুঁকি

মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রশ্মি আমাদের মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে মস্তিষ্কের কোষের ডি.এন.এ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্নায়বিক সংক্রান্ত নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

যেহেতু আমার সম্পূর্ন ভাবে মোবাইল ফোন এড়িয়ে চলতে পারবো না তাই কিছুটা সচেতনত হলে মোবাইল ফোনের অপকারিতা থেকে একটু হলেও বেচেঁ থাকা যাবে।

আরও পড়ুর ফেসবুক লাইট কি

প্রযুক্তি